ইতালির ফ্লোরেন্স থেকে প্রায় ষাট মাইল দূরে ভিঞ্চি নামক একটি ছোটো শহরে ১৪৫২ খ্রিষ্টাব্দে আনচিআনো নামক গ্রামে লিওনার্দোর জন্ম হয়। পিতা পাইরো দ্য ভিঞ্চি একজন বিশিষ্ট বিত্তশালী। তাঁর মাতার নাম ক্যাটরিনা। অটুট স্বাস্থ্য ও রূপের অধিকারী ছিল এই শিশু। পিতা পাইরো পুত্রের উন্নতির জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা করতেন। বিপুল ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের মধ্যে লিওনার্দো প্রতিপালিত ও বেড়ে উঠেছেন। দুঃখের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়নি কখনও। যে সময় লিওনার্দোর জন্ম হয়েছিল তখন ইতালির রেনেসাঁস বা নবজাগরণ। এই সময় ইউরোপে এক বৈপ্লবিক যুগ আরম্ভ হয়েছিল।

অশ্বারোহণ, সংগীত, চিত্র, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, স্থাপত্য ও গণিতশাস্ত্রে ছিল লিওনার্দোর গভীর অনুরাগ। ভিঞ্চি তাঁর ছবির নানা দিক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যেতে লাগলেন। আকাশে উড়ন্ত পাখিদের গতি, ভারসাম্য ও দিক পরিবর্তন লক্ষ করে তিনি বর্তমান যুগের উড়োজাহাজের আকৃতিবিশিষ্ট এক যন্ত্রের পরিকল্পনা করেছিলেন। অঙ্কনে মানবদেহের সৌন্দর্য সৃষ্টিতে যথাযথ উপায় খুঁজে পেতে মৃতদেহ কেটে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতেও বাদ রাখেন নি। শিল্পকলার ইতিহাস ছাড়াও অন্যান্য দিক দিয়ে তাঁর যে গবেষণা ছিল তা পরবর্তীকালে বিজ্ঞানের বহু আবিষ্কারে ভূমিকা রেখেছে। নানা বিষয়ে অসংখ্য অঙ্কন তিনি রেখে গেছেন।

বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিকে তিনি প্রচুর গবেষণা করেছেন। তাঁর চিন্তাচেতনার ফসলের সূত্র থেকেই পরবর্তীকালের আকাশযান, স্থলযান ও জলযানের জন্ম, যা আধুনিক বিশ্বের বিস্ময়।
তাঁর জগৎবিখ্যাত শিল্পকর্মের মধ্যে মোনালিসা একখানি বিখ্যাত চিত্রকর্ম। ছবিটি এখন লুভ্যর প্রাসাদ মিউজিয়ামের সম্পত্তি। এর দৈর্ঘ্য তিন ফুট, প্রস্থ দুই ফুট। এই মহিলা ইতালির ফাঞ্চোস্কো দেল জকন্দো নামক এক ব্যক্তির পঁচিশ বছর বয়স্কা পত্নী। তাঁর মুখের সেই রহস্যময় হাসি আজও আমাদের কৌতূহলী করে। এছাড়াও তাঁর আরও বিখ্যাত ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অ্যাডোরেশন অব দ্য কিংস, ভার্জিন অব দ্য রকস, ম্যাডোনা, শিশু ও সেন্ট অ্যানি। ১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দে ২রা মে, ৬৭ বছর বয়সে এই মহান শিল্পী মহাপ্রস্থন করেন।
| কাজ: লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি কি শুধু চিত্রশিল্পী? তাঁর আর কী কী পরিচয় আছে- সকলে ৬টি বাক্যে লিখে দেখাও। |
Read more